তুহীনকে ছাড়াই শিরোনামহীনের জার্নি শুরু!

0

‘আমি তানযীর তুহীন,ব্যক্তিগত কারণে শিরোনামহীন ছাড়ছি….কিন্তু গান নয়।’ অক্টোবর ৬, ৯:৪৭ মিনিট

Tanzir_Tuhin_(10158906253)

২০১৩ সালে তুহীন। ছবি: ইশতিয়াক রেজা, সিসি-বাই-২.০ লাইসেন্সের অধীনে।

জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ‘শিরোনামহীন’-এর হয়ে আর গাইবেন না এই ব্যান্ডের লিড ভোকালিস্ট তানযীর তুহীন। গত অক্টোবর ৬, শুক্রবার রাতে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও অফিসিয়াল ফেসবুক পাতায় ব্যান্ড ছাড়ার এই ঘোষণা দেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে তুহীন লিখেছেন, ‘আমি তানযীর তুহীন,ব্যক্তিগত কারণে শিরোনামহীন ছাড়ছি….কিন্তু গান নয়।’ তবে কী কারণে ব্যান্ড ছাড়ছেন সে বিষয়ে মুখ খোলেননি তিনি। এর কিছুক্ষণ পূর্বে আরেকটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘আমি তানযীর তুহীন, ব্যক্তিগত কারণে শিরোনামহীন ব্যান্ড থেকে সরে যাচ্ছি।’ বিষয়টির বিস্তারিত জানতে তুহীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।

শ্রোতাপ্রিয় এই ব্যান্ডের ভোকালিস্টের এ-ঘোষণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভক্তদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। এ বিষয়ে শিরোনামহীনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বেসিস্ট জিয়াউর রহমান জিয়া স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে জানান, বেশ কিছুদিন আগে তুহীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। আপাতত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও চিকিৎসক তাকে মঞ্চে পারফর্ম না করার পরামর্শ দিয়েছেন। শিরোনামহীন ব্যান্ডে কোনো প্রকার ভাঙন বা মনোমালিন্য হয়নি। তুহীনের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা সবাই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি, আমাদের ও তুহীনের ভক্তরা তার ভালোর জন্য ব্যাপারটি ভালোভাবে নেবে। ব্যান্ডের কিবোর্ডিস্ট রাসেল কবির বলেন, ‘আমাদের সাথে ভাইয়ের (তুহীনের) কোনো ঝামেলা হয়নি। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। আপাতত সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও চিকিৎসকরা তাকে বিশ্রামে থাকতে বলেছেন, সময় গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে এবং তুহীন ভাই আবারো ব্যান্ডের সাথে ফিরবেন।’ গত ৭ অক্টোবর, প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুহীন বলেছিলেন, ‘ব্যান্ডের সদস্যদের আচরণে আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমি যখন অসুস্থ, আমাকে সুস্থ করার জন্য আমার পরিবার ছুটছে, তখন ব্যান্ডের সদস্যদের কাছে বন্ধুত্বের চেয়ে টাকা মুখ্য হয়ে যায়।’ এ বিষয়ে জিয়া বলেন, ‘ওর এই বক্তব্যে আমরা খুবই মর্মাহত। আমরা মোটেও অর্থলোভী নই। ওকে হাসপাতালে ভর্তি করা, প্রতিদিন হাসপাতালে গিয়ে ওর খোঁজ নেওয়া, পরে ওর বাসায় যাওয়া—এই সব কাজই আমরা করেছি। এরপর ওর কাছ থেকে এমন বক্তব্য আশা করিনি। আমি বলব, ও আমার বন্ধু না।’

shironamhin.net

ডান থেকে: সাফিন, জিয়া, তুহীন, রাসেল এবং দিয়াত। ছবি: মুর্তজা আলম।

ব্যান্ডে নতুন ভোকাল যুক্ত করার ব্যাপারে জিয়া বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কাউকে যুক্ত করিনি। শিরোনামহীন ব্যান্ডের হয়ে যে-কেউ স্টেজে উঠতে পারবে না। তার সেই যোগ্যতা থাকতে হবে।’ জিয়া শিরোনামহীনের আগামী দিনের পরিকল্পনার ব্যাপারে জানান, তুহীনকে ছাড়াই শিরোনামহীনের জার্নি শুরু হচ্ছে। ভাঙা-গড়া ব্যান্ড-সংস্কৃতিতে খুব সাধারণ ঘটনা। আমরা তা নিয়ে মোটেও ভাবছি না।’

তুহীন (জন্ম সেপ্টেম্বর ২৬, ১৯৭৪) পেশায় একজন স্থপতি। তার ছেলেবেলা কাটে ঢাকায়। লেখাপড়া করছেন ঢাকার গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, এবং পরবর্তীতে ঢাকা কলেজে। ২০০০ সালে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্য বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াকালীন- ১৯৯৬ সালে আত্মপ্রকাশকারী ‘শিরোনামহীন’-এ যোগ দেন তিনি। ব্যান্ডটির তৎকালীন সদস্য ছিলেন জিয়া, জুয়েল ও ফারহান। সঙ্গীতের পাশাপাশি কয়েকটি টেলিভিশন নাটকেও অভিনয় করেছেন তুহীন। মধ্যরাত্রিতে তিনজন দুর্ভাগা তরুণ টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে অভিনয় শিল্পী হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর থতমত এই শহরে, স্পুন্ক, এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালে ট্রাম কার্ড ২ নাটকে বিদ্যা সিনহা সাহা মীমের বিপরীতে তাকে দেখা যায়।

Share.

About Author

Leave A Reply