ব্যাংকের অভ্যন্তরে পৃথক এক ব্যাংকিং ব্যবস্থা: অফশোর ব্যাংকিং

0

অফশোর ব্যাংকিং হলো ব্যাংকের অভ্যন্তরে পৃথক এক ব্যাংকিং ব্যবস্থা। বিদেশি কোম্পানিকে ঋণ প্রদান এবং বিদেশি উৎস থেকে আমানত সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে অফশোর ব্যাংকিংয়ে। এতে স্থানীয় মুদ্রার পরিবর্তে বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব হয়। ব্যাংকের কোনো নিয়ম-নীতিমালা অফশোর ব্যাংকিংয়ে প্রয়োগ হয় না। কেবল মুনাফা ও লোকসানের হিসাব যোগ হয় ব্যাংকের মূল হিসাবে। বর্তমানে দেশি-বিদেশি ৩৫টি ব্যাংক অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৮৫ সালে ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য শুধু একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও অফশোর ব্যাংকিংয়ের জন্য হয়নি পূর্ণাঙ্গ কোনো নীতিমালা। ফলে ব্যাংকগুলোর অফশোর ইউনিট অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে। শুরুতে বিদেশি ব্যাংকগুলো এ সেবায় থাকলেও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ব্যাংক যুক্ত হচ্ছে অফশোর ব্যাংকিং সেবায়। গত পাঁচ বছরে এ ব্যাংকিং ব্যবস্থা বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সে কারণে বিদেশি ব্যাংকের পাশাপাশি দেশীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোও অফশোর ব্যাংকিং এর জন্য আলাদা শাখা বা ইউনিট খুলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত মার্চ ২০১৬ শেষে অফশোর ব্যাংকিংয়ের আওতায় বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। যার বড় অংশই বিতরণ করেছে বিদেশি মালিকানাধীন হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (স্ট্যানচার্ট)।

বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান ও মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রচলিত আইনের বাইরে ব্যাংকিংয়ের সুযোগ থাকায় সবাই এখন সেদিকে ঝুঁকছে। তবে এ সুবিধা মূলত রপ্তানিকারকদের জন্য। কম সুদ হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও এ ধরনের ঋণের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। যেহেতু অফশোর ব্যাংকিংয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো আইন ও নীতিমালা নেই, তাই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’ ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুদের হার কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এখন অফশোর ইউনিট থেকেই ঋণ পেতে আগ্রহী। আমরাও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে এ ইউনিট থেকেই ঋণ দিয়ে যাচ্ছি। বাজারে সুদের হার ১০ শতাংশের বেশি হলেও এ ইউনিট থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে।’

অফশোর ব্যাংকিং করছে যেসব ব্যাংক: বিদেশি মালিকানাধীন এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, সিটিব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলোন, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও উরি ব্যাংক অফশোর ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। এ ছাড়া দেশীয় ব্যাংকের মধ্যে বেসরকারি খাতের এবি, আল-আরাফাহ্, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক, ঢাকা, ডাচ্-বাংলা, ইস্টার্ণ, এক্সিম, আইএফআইসি, ইসলামী, যমুনা, মার্কেন্টাইল, মধুমতি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, ন্যাশনাল, এনসিসি, ওয়ান, প্রিমিয়ার, প্রাইম, পূবালী, শাহজালাল ইসলামী, সোস্যাল ইসলামী, সাউথইস্ট, স্ট্যান্ডার্ড, দি সিটি, ট্রাস্ট, ইউসিবিএল ও উত্তরা ব্যাংক এ সেবা দিচ্ছে। তা ছাড়া রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে একমাত্র অগ্রণী ব্যাংক অফশোর ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত।

Share.

About Author

Leave A Reply