।।পোষা কবিদের সময়ে বসবাস।। হিমালয় হিমু’র কবিতা

0

খেসারি ডালের নীল ফুলে কেটে গেছে একখন্ড শৈশব
নামহীন ছিলো অবহেলার ভাঁটফুল
পৃথিবীর সব রহস্য জমা হতো সাইকাসে
পাকা সড়কের কাছাকাছি পৌঁছে ভাবতাম; এ এক অন্য পৃথিবী
সে পৃথিবীর কাছাকাছি ছিলো এখনকার মরা নদী
শৈশবের একমাত্র নদীটিকেও খেয়েছে দুপেয়ে জানোয়ারের দল।
বাড়ির পাশের তালগাছটি ঘিরে রচিত হতো হাজারো ভূতের গল্প
মহাদেব বাজার ছাড়িয়ে নন্দমাঝির বাড়ি
ওখানেই ছিলো এক শৈশব রহস্য
বাঁশখালি খাল পাড়ের প্রকান্ড বটবৃক্ষের ছায়া
আর মা কালির ভয় মিশ্রিত ঘুম হতো নিত্যসঙ্গি
প্রথম কাশফুল দেখার স্মৃতি এখনো তাড়া করে রাতঘুমে
বৈদ্য বাড়ি জুড়ে ছিলো কনক ডাক্তার আতঙ্ক
বেটা সেলাই করেছিলো আমার কেটে যাওয়া কচি হাত।
ঈশ্বরের গল্প গুলোতে ছিলো চূড়ান্ত ভয়
তার চেয়ে ভয়ংকর ছিলো আজিজ হুজুর
তবু মক্তব ঘরেই রচিত হতো আমাদের প্রথম সামাজিক শৈশব
সূর্য মামার কুসুম রাঙা আলোয় কেটে যেত ঈশ্বর ভীতি
বিকাল গুলো ছিলো শৈশবের প্রাণ
স্বর্ণলতা আর কাঁঠাল পাতার টাকায় চলতো আমাদের বৈকালিক সংসার।

এখন নিয়মিত হৃদয় ভাঙে সমকালীন রাষ্ট্রীয় প্রতারনায়,
চাপাতির আঘাতে কাঁদে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইল।
পালিয়ে বাঁচে পোষা কবির দল,
তাঁদের প্রয়োজন আরো এক হাজার একটি মুখোশ!

আমি আশ্রয় খুঁজি পবিত্র শৈশবে

Share.

About Author

Leave A Reply