ব্রেক্সিট পরবর্তী নেক্সিট! ফ্রেক্সিট!!

0

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের এক্সিট বা বেরিয়ে যাওয়াকে বলা হচ্ছে ব্রেক্সিট। ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার বিপক্ষে যারা ভোট দিয়েছে তারা হচ্ছে “লিভ গ্রুপ”। আর যারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছে তারা হচ্ছে “রিমেইন গ্রুপ”। লিভ গ্রুপ ৫২% আর রিমেইন গ্রুপ ৪৮% ভোট পায়। যার ফলে ই-ইউ তে আর থাকা হচ্ছে না ব্রিটিশদের।

১৯৮৯ সালে বার্লিন দেয়াল পতনের পর দুই জার্মানির একত্রীকরণের মাধ্যমে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান হয়, তার তিন বছর পরেই জন্ম লাভ করে ই-ইউ, যার পূর্ব নাম ছিল ইউরোপীয় অর্থনৈতিক কমিশন। আর ইউরোপীয় অর্থনৈতিক কমিশনের পূর্ব নাম ছিল “ইউরোপীয় ইস্পাত কয়লা গোষ্ঠী”!

দুটো বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে যায়, বাড়তে থাকে নিজেদের ভিতর দ্বন্দ্ব, অবিশ্বাস। সে দ্বন্দ্ব অবিশ্বাস দূর করার জন্য প্রথমে উদ্যোগ নেয় ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইতালি। নিজেদের ভেঙে পড়া অর্থনীতি দাঁড় করানোর জন্য এই চার দেশ মিলে গঠন করে “ইউরোপীয় ইস্পাত কয়লা গোষ্ঠী”। মাত্র অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ৪টি দেশ বেশ লাভবান হয়, তার ফলাফল নেদারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গও যোগ দেয় এই জোটে। তখন ব্রিটেনের অর্থনৈতিক অবস্থাও খারাপ ছিল, সাথে চলছিল অর্থনৈতিক মন্দা।

অস্থিতিশীল ছিল তেলের বাজার, মধপ্রাচ্যে অল্প কয়েকদিনে ঘটে যায় ৪ টা আরব-ইজরাইল যুদ্ধ। বাড়তে থাকে তেলের দাম। বড় বিপত্তি বাধে চতুর্থ আরব-ইজরাইল যুদ্ধের সময়, ভয়াভহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে শিল্পোন্নত দেশগুলো। সে সময় আরবের দেশগুলো ইজরাইলের বিরুদ্ধে দাবি আদায়ের জন্য “তেল অস্ত্র” প্রয়োগ করে। তেল অস্ত্র মানে তেল অবরোধ, উন্নত বিশ্বের কাছে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয় আরবের দেশগুলো, যাকে বলা হয় “তেল-অস্ত্র”। তাতে ক্ষতির মুখে পড়ে গোটা ইউরোপ সহ বিশ্বের অর্থনীতি।

ঠিক সে সময় ১৯৭৩ সালে ব্রিটেন গনভোট করে ই ইউ তে যোগদানের ব্যাপারে, তারপর তারা ই-ইউ তে যোগ দেয়। ক্রমান্বয়ে ব্রিটিশরা অর্থনীতি মন্দা থেকে বের হতে থাকে। তারপর নানা টালবাহানা শুরু করে, ই ইউ এর একক মুদ্রা ইউরো বেশিরভাগ দেশ চালু করলেও ব্রিটিশরা নিজেদের পাউন্ড স্টার্লিংই বহাল রাখে। মুক্ত সীমান্ত শেনজেন ভিসা সবাই গ্রহণ করলেও ব্রিটিশরা এসব কিছুর বাহিরে রেখেছে নিজেদের। ব্রিটেন বের হয়ে যাওয়ায় ই-ইউ দুর্বল হয়ে গেছে, আরও অনেক দেশই ই-ইউ ছাড়ার পক্ষে।ব্রিটেনের পথ ধরে নেদারল্যান্ড, ফ্রান্সও একই পথে হাঁটার সম্ভাবনা প্রবল।এখানে নেক্সিট মানে নেদারল্যান্ডের ই-ইউ এক্সিট। ফ্রেক্সিট মানে ফ্রান্সের ই-ইউ এক্সিট।

এরফলে ব্রিটিশ পাউন্ড স্টার্লিং সহ ইউরো মুদ্রার দাম কমে গেছে, পুতিন এখন রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের দাম বাড়াবে, পুতিনের সামনে খোলা আছে ইউরেশিয়া অর্থনৈতিক জোট, সাংহাই সহযোগিতা কর্পোরেশন জোট এবং ব্রিকস ব্যাংক নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। ইরানও হাফ ছেড়ে বাচলো, অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে পড়ার সম্ভাবনা নেই। মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়া-ইরান-সিরিয়া জোট আরও শক্তিশালী হবে।

ব্রিটেনের ই-ইউ থেকে বিদায় বিশ্বের মানচিত্রে আরও নতুন কয়েকটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ভূখন্ডের আত্মপ্রকাশে সাহায্য করবে। গণভোটের কয়েক ঘণ্টা পর স্কটল্যান্ডের কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং সংগঠন স্বাধীনতার পক্ষে আবার গণভোটের ডাক দিয়েছে, তারা ব্রিটিশদের সাথে আর থাকবে না।আয়ারল্যান্ডও ব্রিটিশদের সাথে থাকবে না, হয়ত দুটো স্বাধীন আয়ারল্যান্ড হবে অথবা দুই আয়ারল্যান্ড এক হয়ে যাবে।

Share.

About Author

Leave A Reply