রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলাঃ বর্ণান্ধ চাতুর্যতার জঞ্জালগুচ্ছ

0

লিখেছেনঃ বিপ্লব বিপ্রদাস। রবি ঠাকুরের ফাও দাগাদাগির জঞ্জাল গুলোকে অনেক রবীন্দ্র খাদেম মহৎ শিল্পকর্ম হিসাবে বাজারে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে আসছে বহুকাল ধরে! রবি ঠাকুর আঁকলেই যে তা মহৎ শিল্প হবে এ ধরণের ভাবনা একেবারেই বাজারী ব্যাপারি উদ্দেশ্য থেকে উৎসারিত অথবা শিল্প জ্ঞান এবং রুচিপ্রতিবন্ধিরা এরকম বলতেই পারে। শিল্পের বিচারের ক্ষেত্রে ব্যাক্তিকে নয় তার কাজকেই বিচার করা উচিৎ, সেই অর্থে ররি ঠাকুরের তথাকথিত আঁকা হাবড় জাবড় নোংরা কাগজকে অবশ্যই আমরা কোন শিল্পের মর্যাদা দিতে পারি না, কারণ সেগুলো তা হয়ে ওঠেনি।–ঋষি এস্তেবান

১.
একদা রবীন্দ্রনাথ নামে এক ব্যাক্তি ছিলেন। পশ্চিমা বিশ্ব তাদের পণ্যকে বাজারজাত করিবার জন্য তাহাকে আবিষ্কার করে এক ফলপ্রসু মাধ্যম হিসেবে। তিনিও সোনার মেডেল খানি প্রাপ্ত হইয়া যারপরনাই আহ্লাদিত হন । ফলে, হাইব্রিড প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমানে মধ্যমগোছের পদ্য লিখিতে সমর্থ হন। যদিও তাঁর প্রকৃত রচনা গদ্য ও গীত হইতে পারিত। ইহাও শেষ নহে, তিনি পুলকিত হইয়া ছবি আঁকিতে শুরু করেন। বস্তুত ইহা তাহার মতিভ্রমের ফসল ছিল। কারণ, যে ভাঙনের খেলায় মাতিয়া উঠিয়াছিলেন, সেইখানে নির্মাণের অংশটুকু ছিল তাহার অজানা। তিনি শিঁকড়বিহিন এক গাছে জল ঢালিতে নিমগ্ন হন। জল প্রাপ্তির ফলে গাছটিকে মুহূর্তকালের জন্য সজীব মনে হলেও তাহা পঁচনকেই নির্দেশ করে মাত্র। তিনি ভ্রমের মধ্যে নিজেকে ভ্রমণ করাইতে সক্ষম হন।

উনিশশ’ ত্রিশ সালের প্যারিসের পিগাল গ্যালারিতে চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমেই জনসমক্ষে আসে তাঁহার চিত্রকলা। বিতর্কের শুরুও সেইখান হইতে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের শিল্পব্যাপারীগণ রবীন্দ্রনাথকে কিঞ্চিৎ উষ্কানি প্রদান করেন। শিল্পে তাঁর অপরিচ্ছন্ন ও পরিমেয় বোধের প্রতি আমাদের অতি উৎসাহি বাঙালিগণ তৈল সহযোগে বিবস্ত্র প্রয়াসে লিপ্ত হয়। ফলতঃ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ এক ঘোরের মধ্যে নিজেকে চালিত করিয়া নিরীক্ষার চেষ্টা করিতে থাকেন।

তিনি বর্ণান্ধ ছিলেন। লাল-সবুজ রঙের পার্থক্য বুঝিতেন না। এই বর্ণদৃষ্টির সীমাবদ্ধতাকে আধুনিক চিত্রকলার স্রোতের মধ্যে ‘ফিট-ইন’ করিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন। বর্ণের প্যাটার্নকে চতুরতার সাথে বাস্তবের অনুকরণ না করে, সুকৌশলে পাশ কাটিয়ে, এমনকিছু আঁকিবুকি করিতে উদ্যত হইয়াছিলেন যাহাতে তাঁর চিত্রের অসারতা আরো প্রখর হইয়া ওঠে।

তাঁহার ছবি আঁকা- প্রত্যক্ষভাবে প্রচলিত শুদ্ধ আঞ্চলিক ঘরাণাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। ভারতীয় দ্বিমত্রিক শক্তিশালি চিত্রনির্মাণের কৌশল কে তিনি নিজের অক্ষমতার কারণে অস্বীকার করিয়া ডুডল তৈরি করেন। ইহাতে আমাদের পটুয়া নির্মিত চিত্রকলার প্রসারিত হওয়ার রাস্তা সংকুচিত হইতে থাকে। নতুন আর আধুনিক চিত্রকলা চর্চার নামে দাগ সর্বস্ব ইমেজ লইয়া বাজারে হাজির হইতে থাকে। একই সাথে তিনি চিত্রকলার হন্তারক ও সংস্কৃতি বিকৃতিকারী রুপে অবতীর্ণ হইতে থাকনে।

২.
উৎসাহি ওকোম্পো এবং অতি উৎসাহি কতিপয় চাটুকর-পদলেহনকারি, রবীন্দ্রনাথকে চিত্রকর রুপে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হন। কিন্তু যেহেতু রবি ঠাকুর বর্ণান্ধ ও চিত্র রচনায় বালখিল্য প্রয়াসি, সেই হেতু তথাকথিত আঁকা অ-শিল্পগুচ্ছকে আমরা বর্জন করিতে পারি সন্দেহাতীত ভাবে। রেনোয়ার বা কান্ডিনস্কি রঙ দিয়ে আঁকার বা ফর্ম গড়ে তুিলতেন। ররীন্দ্রনাথ তাহাদের কে অনুসরণ করতে আগ্রহী ছিলেন কিন্তু যেহেতু তার চর্চার অভাব ছিল এবং সহজে কিছু একটা তৈরির বাসনা ছিল, সেইহেতু রবীন্দ্রনাথ পুরোপুরি অসমর্থ ছিলেন সফল চিত্র নির্মানে।

রবীন্দ্র চিত্রে বর্ণ-প্রাবল্য ছবির অসম্পূর্ণতা ঢাকিবার কারনে। তথাপি আমরা শাকের ভিতর হইতে মাছকে দেখিতে সক্ষম । অন্তসারশূন্য শিল্পকে আমরা শিল্প হিসাবে গ্রহণ করিতে আগ্রহী নহি। বস্তুত রবীন্দ্রনাথ একটি খিচুড়ি সদৃশ্য প্রোডাক্ট, বিবিধ সীল এবং প্রভূত মুল্যমান তাঁকে ক্রমশঃ সস্তা করিয়াছে। রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা দুঃসহ ও অধঃপতিত। দুর্গন্ধজনিত কারনে আমরা ‘তাহা’ ইহার অধিক ঘাটিতে আগ্রহী নই।

প্রাপ্তি স্বীকারঃ করাতকল।বাঙলা ভাষার ছোটকাগজ

Share.

About Author

Leave A Reply